Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নামছে পানি, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দেখা দেয় এ বন্যা

আপডেট : ০২ জুন ২০২৪, ০৮:১২ পিএম

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির দিকে। সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টি না হলে পানি আরও কমবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

ফলে রবিবার (২ জুন) থেকে নগরীর বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করে।

পাউবো জানায়, সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে কমেছে। কিন্তু কানাইঘাটে এখনও বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমলসীদে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার ওপর এবং শেওলা পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানান, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ২০৪ জন বাড়িতে ফিরেছে। এই বন্যায় সিলেট মহানগরী এবং ১৩ উপজেলার ৫৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১,৮০৬ জন মানুষ আশ্রয় নেন। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেন ৫০০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানান সিলেট আবহাওয়া অফিসের অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন।

নগরীর মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা সুনীল সিংহ বলেন, “রবিবার দুপুর থেকে পানি কমতে শুরু করে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এলাকার বাড়ি-ঘরে পানি উঠে পড়ে। ফলে পাড়ার অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি ছিল।”

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বলেন, “সিটি কর্পোরেশন এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বন্যা দেখা দেয়। বন্যা হওয়ার পর থেকে সিসিক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশনায় নানান কর্মতৎপরতা চালানো হয়। ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিছুর রহমান কামরানসহ কর্মকর্তারা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে তৎপর ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “সুরমা তীরবর্তী বিদ্যুতের সাবস্টেশনগুলো রক্ষার জন্য বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ বানানো হয়েছে।”

চলমান বন্যায় নগরীর কিশোরী মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী একটি পাঁচতলা খালি ভবনকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করে সিটি কর্পোরেশন। এতে আশ্রয় নেয় শতাধিক পরিবার। তাদের খাবার ও চিকিৎসা সেবাও দেওয়া হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই দুটি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও বন্যাকবলিত ওয়ার্ডগুলোতে শুকনো খাবার, চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ও কিছু কিছু ওয়ার্ডে মোমবাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে  সিলেটে সোমবার (২৭ মে) ভোররাত থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। কখনো থেমে থেমে মাঝারি, কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি হয়ে হয়। সঙ্গে ছিল দমকা বাতাস। বুধবার থেকে ভারি বৃষ্টি ও হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের সাতটি উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। নগরীর সুরমার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলসহ উপশহররের কয়েকটি এলাকায় ঢুকে পড়ে বানের পানি।

About

Popular Links