সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে একটি ছাগল নিয়ে। রাজধানী ঢাকার সাদিক এগ্রো” একটি ফার্মে কোরবানি উপলক্ষে ছাগলটির দাম ১৫ লাখ টাকা হাঁকানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণের কাছে ১২ লাখ ছাগলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়।
তবে বিপত্তি দেখা দেয় ওই ছাগল বিক্রি সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর। অনেকেই দাবি করেন, ইফাত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট ড. মো. মতিউর রহমানের ছেলে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার ছেলের এত দাম দিয়ে ছাগল কেনা নিয়ে সমালোচনায় মেতে ওঠেন নেটিজেনরা। এদিকে, সমালোচনা যখন তুঙ্গে তখন মতিউর রহমান জানান, ওই ছাগলের ক্রেতা তার ছেলে নন।
বুধবার মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমার একমাত্র ছেলের নাম তৌফিকুর রহমান। একটি গোষ্ঠী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমি এ বিষয়ে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সহায়তা চেয়ে আইনি পদক্ষেপে যাচ্ছি। সামাজিক মাধ্যমে আমার ছবি ও নাম ব্যবহার করায় আমি বিব্রত। আমি অবশ্যই আইনি পদক্ষেপে যাব।”
তবে এবার এই আলোচনার আগুনে ঘি ঢাললেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। তিনি জানিয়েছেন, ইফাত তার মামাতো বোনের সন্তান। আর রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানই তার বাবা।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) মোবাইল ফোনে ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিজাম হাজারী বলেন, “ইফাত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে। ধারণা করছি, রাগ করে মতিউর রহমান ইফাতের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। মতিউর রহমান নিয়মিত দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর নানা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।”
জানা গেছে, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় থাকেন ইফাত। তার বাবা এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। আর দ্বিতীয় স্ত্রীর একমাত্র সন্তান মুশফিকুর রহমান ইফাত।
এদিকে সাদিক এগ্রোর মালিক ইমারন হোসেন বলছেন, ইফাত নামের ওই ক্রেতা এক লাখ টাকা দিয়ে ছাগলটি বুকিং করলেও পরে আর সেটি নিতে আসেননি। এমনকি তার সঙ্গে আর যোগাযোগও করা সম্ভব হয়নি। তাই ছাগলটি এখনও অবিক্রীত অবস্থায় তাদের ফার্মে রয়েছে।



১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কিনতে চাওয়া ছেলেটি আসলে কার?
একটি ছাগলের দাম কেন ১৫ লাখ?