Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঈদের ছুটিতে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের ঢল

কাপ্তাইয়ের প্রকৃতির টানে মুগ্ধ ভ্রমণপিপাসুরা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৫, ১০:২৪ পিএম

ঈদের ছুটিকে ঘিরে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। পাহাড়, হ্রদ আর ঝরনার টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

সোমবার (৯ জুন) ঈদের ছুটির তৃতীয় দিনে পর্যটন শহর হিসেবে খ্যাত রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাইয়ের জনপ্রিয় বিনোদন স্পটগুলোতে শত শত পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাঙ্গামাটির পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, কাপ্তাই হ্রদ, পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, আসামবস্তি, কাপ্তাই সড়ক এবং শুভলং ঝরনায় পর্যটকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। হোটেল-মোটেলে ৭০-৮০% বুকিং আছে।

রাঙ্গামাটি হোটেল কসমস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে আমাদের হোটেলে আগামী শনিবার পর্যন্ত পুরোপুরি বুকিং আছে।”

হেটেল হিল অ্যাম্বাসেডরের রায়হান বলেন, “আমাদের হোটেলে প্রায় ৮০% রুম বুকিং আছে আগামী কয়েকদিনের জন্য।”

সোমবার বিকেলে রাঙ্গামাটি পলওয়েল পার্কে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো পার্ক এলাকা জুড়ে শতশত পর্যটকদের ভিড়। পলওয়েল পার্কের টুরিস্টরা ঝুলন্ত সেতু কাপ্তাই লেকে ভ্রমণ ও পলওয়েল   পার্কের বিভিন্ন স্পটগুলোতে পরিদর্শন করছেন।

পলওয়েল পার্কে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা নিখিল দাশ দম্পতি বলেন, এখানকার কাপ্তাই লেক ও পলওয়েল পার্ক খুবই সুন্দর। আমরা প্রাকৃতিক রুপ দেখে খুবই বিমোহিত।

এদিকে, কাপ্তাই শিলছড়ি নিসর্গ রিভার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউসে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অসংখ্য পর্যটকের উপস্থিতি। চট্টগ্রামের সিটি গেইট এলাকা থেকে আসা পর্যটক আলাউদ্দিন ও টিপু বলেন, কাপ্তাইয়ে আমরা বন্ধুরা ঘুরতে এসেছি। এসে খুব ভালো লাগছে। আমরা বোট রাইডিং করেছি, অসাধারণ প্রকৃতি।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা এলাকা থেকে আসা জাহাঙ্গীর, নাছির, ফারুক সিকদার ও তৌহিদ বলেন, কাপ্তাই আমাদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। পরিবেশ দারুণ। পর্যটন শিল্পে কাপ্তাইয়ে প্রচুর উন্নতি হয়েছে।

নিসর্গ রিভার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউসের পরিচালক মো. আফসার উদ্দিন বলেন, “ঈদের টানা ছুটিতে আমাদের বিনোদন কেন্দ্রে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। ১৭টি কটেজ ঈদের দিন থেকে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত পুরোপুরি বুকিং আছে। পাশাপাশি, নিসর্গ রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে দেড় থেকে দুই শতাধিক মানুষ খাবার উপভোগ করছেন।”

নিসর্গ কুটিরের মালিক নাসিম আহমেদ বলেন, “সোমবার কাপ্তাইয়ে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। আমাদের ব্যবসা ভালো হচ্ছে।”

এদিকে, কাপ্তাই নৌবাহিনীর শহীদ মোয়াজ্জেম ঘাঁটি পরিচালিত লেক প্যারাডাইসে গিয়েও দেখা গেছে পর্যটকের ভিড়। কাপ্তাই লেকের এক বোট চালক মো. জাহাঙ্গীর জানান, এখানে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। অনেকে বোট নিয়ে কাপ্তাই লেক ঘুরছেন।

এছাড়া কাপ্তাই ৪১ বিজিবি পরিচালিত ওয়াগ্গা প্যানোরোমা জুম রেস্তোরাঁ, কাপ্তাই রিভার ভিউ পার্ক, সেনাবাহিনী পরিচালিত জীবতলি লেকশোর ও লেকভিউ আইল্যান্ড, ফ্লোটিং প্যারাডাইস, বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে পরিবার-পরিজন এবং বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অসংখ্য পর্যটক ঈদের ছুটি উপভোগ করছেন।

রাঙ্গামাটির আবাসিক হোটেল ও মোটেলগুলোতেও পর্যটকের চাপ বেড়েছে। হোটেল মালিকদের তথ্যমতে, বর্তমানে শহরের প্রায় ৭০-৮০% কক্ষ ইতিমধ্যেই বুকিং হয়ে গেছে।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলি উল্লাহ জানান, পর্যটন শহর কাপ্তাইয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, ঢাকা থেকে আগত পর্যটক শাহীনারা বেগম বলেন, “রাঙ্গামাটির প্রকৃতি অপরূপ। আমরা পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে এসেছি। এখানে এসে মন একদম ভালো হয়ে যায়।”

নারায়ণগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সোহেল বলেন, “ঝুলন্ত সেতু আর শুভলং ঝরনার রূপ ছবিতে দেখেছি, কিন্তু সরাসরি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। এ রকম স্থানে বারবার আসতে মন চায়।”

চট্টগ্রামের পর্যটক সাবরিনা সুলতানা বলেন, “শিলছড়ি নিসর্গ রিভার ভ্যালি আর কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখানকার পরিবেশও বেশ পরিচ্ছন্ন। খুব ভালো সময় কাটাচ্ছি।”

রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, “আজকে ঝুলন্ত সেতুতে আড়াই হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। মোটেলেও আাগামী ১৩ জুন পর্যন্ত রুম বুকিং আছে। এই ঈদের ছুটিতে রাঙ্গামাটিতে প্রচুর টুরিস্ট ভ্রমণ করছেন।”

   

About

Popular Links

x