ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সরকার গঠন নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট। প্রথমবার নির্বাচনে লড়েই ১০৮টি আসন জিতে চমক দিলেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে না পারায় থালাপথি বিজয়ের দল টিভিকে (তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম) সরকার গঠন করতে পারছে না। এই সুযোগে বিজয়কে ক্ষমতার বাইরে রাখতে তামিল রাজনীতির দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র জোট বাঁধার গুঞ্জন তুঙ্গে উঠেছে।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বিজয় কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে বর্তমানে ১১২ জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে পেরেছেন। গতকাল ১১২ জনের তালিকা নিয়ে গভর্নর রাজেন্দ্র আর্লেকারের সঙ্গে দেখা করলে তিনি সরাসরি ১১৮ জনের সমর্থনের প্রমাণ দেখতে চান। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার বিজয়ের দল টিভিকে বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের প্রস্তুতির কথা গভর্নরকে জানিয়েছে। বিজয় আজ রাজভবনে গিয়ে গভর্নরের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠকও করেছেন।
বিজয় যখন সরকার গড়ার জন্য মিত্র খুঁজছেন, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতির দীর্ঘদিনের দুই ‘জাতশত্রু’ ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র মধ্যে ব্যাকচ্যানেলে আলোচনার খবর পাওয়া গেছে। ইন্ডিয়া টুডে ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজয়কে ঠেকাতে এআইএডিএমকে-র নেতৃত্বাধীন সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন ডিএমকে। ১৯৭২ সালে যে বৈরিতার শুরু হয়েছিল, সেই কয়েক দশকের দ্বৈরথ ভুলে দুই দ্রাবিড় দলের এমন জোটের সম্ভাবনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলছেন বিশ্লেষকরা।
ডিএমকে নেতা এসএএস হাফিজুল্লাহ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আপনারা যে খবর শুনতে চলেছেন, সেটি তামিলনাড়ু ও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে।” তাঁর এই মন্তব্য দুই দলের জোট বাঁধার জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক সমীকরণে ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারে ভিসিকে (ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি)। তবে দলটি তাদের আজকের নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে রহস্য বজায় রেখেছে। অন্যদিকে বাম দলগুলো (সিপিএম ও সিপিআই) আগামীকাল ৮ মে পর্যন্ত তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে। ডিএমকে নেতৃত্ব যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী যে, বাম ও ভিসিকে তাদের সঙ্গ ছাড়বে না।
বিজয় মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর সময় চেয়ে নিলেও গভর্নরের কড়া অবস্থানের কারণে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে ম্যাজিক ফিগারের ১০টি আসনের ব্যবধান ঘোচানো বিজয়ের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ুর মসনদে কি নতুন বিজয়ের কেতন উড়বে, নাকি পুরনো দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর অপ্রত্যাশিত জোট ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে—তা জানতে এখন গোটা ভারতের চোখ চেন্নাইয়ের দিকে।



