জার্মানির লুবেক শহরের কাছে উদ্ধার হয়েছে চার শতাব্দী প্রাচীন একটি ডুবে যাওয়া জাহাজ। জাহাজটি থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা বাণিজ্য জাহাজটি থেকে উদ্ধার করা মূল্যবান সম্পদ প্রদর্শনীতে তুলেছেন। জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে ষোড়শ শতাব্দীর কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে।
উদ্ধারের প্রায় ১৮ মাস পর সপ্তাদশ শতাব্দীর এই বাণিজ্যিক জাহাজটিতে পাওয়া সম্পদগুলো প্রত্নতত্ত্ববিদরা প্রদর্শন করেন। জার্মানির উত্তারঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া নৌযানগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ।
প্রকল্প প্রধান ফেলিক্স রয়েশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “আমরা আমাদের আশাতীত প্রত্ন নিদর্শন পেয়েছি এবং এসব জিনিসপত্র থেকে অনেক নতুন তথ্য জানতে পারব।”
অভিযানে উদ্ধার গুপ্তধনগুলো পরিষ্কার করে নথিভুক্ত করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনামাটির বাসন, কারচুপির অংশ, ১৮০টি কাঠের টুকরো রয়েছে।
এই জাহাজে সে সময়কার দৈনন্দিন জীবন কেমন ছিল তার একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা এই অনুসন্ধানকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বাল্টিক সাগরে এর আগে বেশকিছু যুদ্ধজাহাজ পাওয়া গেলেও এটিই প্রথম বাণিজ্যিক তরী। যা সে সময়কার বেসামরিক জীবন সম্পর্কে ধারণা দেয়। পোর্সেলিনের টুকরোগুলোতে পাওয়া প্রাণীর হাড় থেকে ধারণা পাওয়া যায় বোর্ডে কী খাওয়া হয়েছিল।
জাহাজ থেকে পাওয়া জিনিসগুলো এখন থ্রিডি স্ক্যান করার জন্য লুবেক শহরের একটি সংরক্ষণাগারে নিয়ে যাওয়া হবে।
ভুল করে পাওয়া
২০২১ সালের নভেম্বরে জাহাজটিকে প্রথম জার্মানির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বন্দর নগরী লুবেকের কাছে ট্রেভ নদীতে খুঁজে পাওয়া যায়। নদীর পানি পরিমাপের কাজের সময় পানি থেকে ১১ মিটার গভীরে ২৫ মিটার লম্বা এবং ৬ মিটার চওড়া জাহাজটির সন্ধান পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের দাবি,জাহাজটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল, কিন্তু পৌঁছাতে পারেনি। কাঠের টুকরোগুলোর গভীর কালো দাগ থেকে বুঝা যায়, জাহাজটিতে অনেক বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি নিমজ্জিত হওয়ার পেছনে এই অগ্নিকাণ্ডই দায়ী।



