Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আমজনতার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা

নানা কারণে আমাদের তাকিয়ে থাকতে হয় এই পরাশক্তির দিকে। যারা একই সঙ্গে বিড়াল ও ইঁদুর এই দুই স্বত্ত্বাকে নাচিয়ে চলেছে। পৃথিবীর কেন্দ্র বদল না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২২, ১২:০২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথম চিনি মার্ক টোয়েন পড়ে। জানতে পাই দুরন্তপনার অ্যাভভেঞ্চার সেখানেও আছে। পরিচয় ঘটে টম সয়্যার আর হাকলবেরি ফিনের সাথে। ধারণা হয় আশ্চর্য নদী, সবুজ বনানী আর সাদা কালো সব মানুষের দেশ এটি।

এরপর হাতে আসে তিন গোয়েন্দা। ক্যালিফোর্নিয়ার রকি বিচ আমাদের ঘর বসত হয়ে ওঠে। আর কিশোর পাশা তো আমাদের ছেলেই। তার বন্ধু মুসা আমান আর রবিন মিলফোর্ড পর হবে কেন?

আর একটু বড়বেলায় বেলায় ভর করে ওয়েস্টার্ন সিরিজ। এরফান জেসাপরা বুনো পশ্চিম তুলে ধরে। নেশা ধরে ঘোড়ার স্যাডল ধরে ছুট আর গোলাবারুদের গন্ধে। মনে মনে আমরাও কোনো অপ্সরী নিয়েকে নিয়ে নিজস্ব আপন এক র‌্যাঞ্চ গড়ার স্বপ্ন দেখি।  

কিন্তু পা ফেলি ইতিহাসের ভুল ফাঁদে। যে হিংস্রতায় ওয়েস্টার্নে রেড ইন্ডিয়ানরা চিত্রিত হয়, তা আসলে গণহত্যা আড়ালের নিপুণ নকশা। এই তামাটে চামড়ার মানুষরাই ছিলেন আসল আমেরিকান। পুরো মহাদেশের ভূমিপুত্র তারা। শ্বেতাঙ্গরা মূলত সেখানে আগত দেশ দখলকারী।

বড় হতে হতে আমরা শীর্ষেন্দু, সুনীল, হুমায়ূনেও আমেরিকার দশা জানি। সে দেশ এক “ল্যান্ড অব অপোরচুনিটি”। ভাত, মাছের হোটেল দুর্লভ হলেও আছে বৈচিত্র্য আর ভিন্ন মতের উপস্থিতি। আর বুঝতে পারি, রাষ্ট্র ও জনগণ এক নয়। এর সেরা উদাহরণ যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানের সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীপক্ষ ছিল। কিন্তু নিউ ইয়র্কের বুকে “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” আবার বাস্তব করেছেন মার্কিন তরুণরাই।  

কিন্তু পাবলিক সেন্টিমেন্ট কখনোই মার্কিনীদের পক্ষে দেখিনি। এটি যত না জেফারসন, লিংকন আর মার্টিন লুথার কিংয়ের দেশ তার চেয়ে বেশি যেন বুশ কালের মাস্তানির দেশ। প্রথম কেবলার দখলদার ইসরায়েলের মদদদাতা তারা। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিক বাজেটের দেশ। অস্ত্র বাণিজ্যে এক নম্বর। হলিউড দিয়ে দুনিয়া মাতানো দেশ।

ইরাক গিলে খাওয়ার সময় আমরাও প্রতিবাদে মিছিলে নামি। মাদ্রাসা থেকে আসেন সেখানের শিক্ষার্থীরা। মুক্তাঙ্গনে দেখেছিলাম তাদের হাতে ব্যতিক্রমী প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ছিল-

“বুশের মাথায় ঠাডা পড়ুক!”

কিন্তু বুশেরা অক্ষত থেকেছে। ওবামার “ক্লিন ইমেজ” এর কিছু পর এলেন ট্রাম্প। সব কিছু যেন নষ্টদের অধিকারে গেল এরপর থেকে। ফ্যাসিবাদ ভিত্তি পেল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে।

তবু যুক্তরাষ্ট্র পথ দেখায় অনেকভাবে। সেখানেই ঘটেছে গ্রহের মহিমান্বিত আন্দোলন “ওকুপাই ওয়াল স্ট্রিট মুভমেন্ট”। সেখানে সত্য দাবী প্রতিষ্ঠার কথা এক কথায় বলা হয়েছে “উই আর দ্যা নাইটিনাইন পারসেন্ট” বলে। পরে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি যেন আগুনে হয়ে ওঠে। শহরে শহরে উপড়ে ফেলা হয় কলম্বাসের ভাস্কর্য। ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে এমন জাগরণ সম্ভব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

বহু দেশে ক্ষমতার পালা বদলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রাখে এই রাষ্ট্র। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে মেরে শেষ দেওয়া অনেক রাষ্ট্র প্রধানকে। এসবের বিচার কি আদৌ হবে কোনো দিন?  

সব মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক আশ্চর্য জগত। কিছু স্টেটে জনতার আছে অস্ত্র বহনের অধিকার। তা নিয়মিত বিপত্তি ঘটায় বিদ্যাপীঠে হত্যাকাণ্ডে। গান লবি, অ্যান্টি গান লবির নানা দেন দরবার চলতে থাকে।    

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই ১৩টি উপনিবেশের কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন করে। অবশ্য এর দুইদিন আগেই প্রতিনিধিরা ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেন। তাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাই।

আমরা গরিব অভাজন। তবু নানা কারণে আমাদের তাকিয়ে থাকতে হয় এই পরাশক্তির দিকে। যারা একই সঙ্গে বিড়াল ও ইঁদুর এই দুই স্বত্ত্বাকে নাচিয়ে চলেছে। পৃথিবীর কেন্দ্র বদল না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে। আর আমরা এ খেলায় দর্শক ভিন্ন কিছু নই। আম জনতা হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আম জনতাকে তাই এ প্রহরে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।


লেখক, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা হাসান শাওনের জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজধানীর মিরপুরে। পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়।

২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই “হুমায়ূনকে নিয়ে” প্রকাশিত হয়।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।

   

About

Popular Links

x