প্রকৃতিতে নামছে শীত। আর রাজনীতিতে ধেয়ে আসছে নির্বাচন। মুহূর্তে মুহূর্তে এর চিত্র পাল্টাচ্ছে। সাইক্লোনের মতো “ধেয়ে” আসা শব্দের ব্যবহার এ কারণেই। প্রতিদিন তীব্র হচ্ছে সহিংসতা। টানা অবরোধে পুড়ছে যান। সেই সঙ্গে প্রাণ ভোমরা “জান”ও। আমরা সাধারণরা জানি না সমাধান কীসে? প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপের সংস্কৃতি নেই।
রাজনীতিতে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে বিদেশি পরাশক্তিদের মিশন। অন্য সময় না হলেও একদা ভোট এলে রাজনীতিবিদরা জনতার কাছে ফিরতেন। এখন তাদের গন্তব্য বিদেশিদের দুয়ার।
হায় উপনিবেশ, তুমি কোনোদিনই পিছু ছাড়লে না দুঃখিনী বাংলার!
তবু বাংলাদেশে বিজয় দিবস পালিত হয়। তখন মনে পড়ে যায় এক বর্ষীয়ানের অমোঘ বাণী, “দেশ কখনও শত্রুমুক্ত হয় না। বরং শত্রু বদলায়।”
নির্বাচন সামনে রেখে যা কিছু ঘটছে তাতে একমাত্র আক্রান্ত পক্ষ জনগণ। বাকিদের কিছু যায়-আসে না। দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া। সরকারনির্ধারিত মজুরি এখন পর্যন্ত মানেননি পোশাক শ্রমিকরা। দেশের অর্থনীতি নানা সূচকে দিচ্ছে অশনি বার্তা। রিজার্ভ তলানিতে। নতুন বিনিয়োগ স্থবির। বেকারত্ব চরমে।
অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন দেখিয়ে সরকারি দল ভোট টানতে চাইছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এসব তৈরি বিদেশি চড়া ঋণে। যা শোধের দায় পড়বে দেশের সাধারণ জনগণের ঘাড়ে।
গণতন্ত্র এক বিস্ময়কর দশায় এখন বাংলাদেশে। যেখানে সমাধান করা যায়নি ভোট ব্যবস্থারই। যে জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তাদের নিয়ে ভাবনা কারও নেই। রাজনৈতিক পেশীশক্তির আঘাতে ছিন্নভিন্ন নাগরিক অধিকার। গ্যারান্টি নেই স্বাভাবিক মৃত্যুর। কোন বাসে কে পুড়বেন- নেই এরও কোনো আন্দাজ। তবে পুড়ে যাওয়ার চেয়ে পুড়বার আতঙ্ক ভয়াবহ। এই আতঙ্ক তৈরিতে সফল হয়েছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীরা। জনগণকে জিম্মি করার জন্য এর চেয়ে ভালো হাতিয়ার আর নেই। ভয় আর আতঙ্কের সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার আজকের বাংলাদেশে।
জনগণের কিছু হারাবার নেই। পরিস্থিতিতে নাভিশ্বাস দশা তাদের। গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা বিশেষত শাহবাগ আন্দোলন ও শাপলা চত্বরের পর বাংলাদেশের জনগণ এখন কোনো পক্ষকেই বিশ্বাস করে না। জনগণের অংশগ্রহণে কোনো আন্দোলন তাই সফল হবে না। আরও বড় কথা জনগণ কোন পক্ষের ব্যানারে, কোন ভরসায় পথে নামবেন? মুক্তির স্লোগান তোলা প্রত্যেকের আগপাশ তলা তাদের দেখা হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের জনগণ এখন তাই রূপ নিয়েছেন এক বিমূর্ত সত্বায়। প্রতিক্ষণে তাদের নাম উচ্চারিত হয়। কিন্তু আসল হিসেবে ক্ষমতার কোনোখানেই তারা নেই।
৫০ পেরোনো দেশের জনগণের নাগরিক হয়ে উঠতে না পারা বড় গ্লানির। অবশ্য যদি এই বোধটুকু আমাদের থেকে থাকে।



