Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আনুপাতিক ভোট পদ্ধতিটা আসলে কী?

বাংলাদেশ আজও প্রায় সর্বক্ষেত্রে সেই ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের রেখে যাওয়া পুরানো প্রথাকেই অনুসরণ করছে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৪১ পিএম

২০০ বছর ব্রিটিশ রাজত্ব, ২৪ বছর পাকিস্তানের দুঃশাসন ও সর্বশেষে একাত্তরের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের ফসল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এইদিন বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি নুতন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বাঙালি জাতি লাভ করে তাদের পূর্ণ ভৌগলিক স্বাধীনতা। ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৩ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর। অথচ বাংলাদেশ আজও প্রায় সর্বক্ষেত্রে সেই ব্রিটিশ ও দখলদার পাকিস্তানিদের রেখে যাওয়া পুরানো প্রথাকেই অনুসরণ করছে। এদিক থেকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো আধুনিকতাকে নানাভাবে বরণ করে নিয়েছে। উন্নত বিশ্ব বাংলাদেশ থেকে এখন হাঁটছে অনেক সামনে। বিশেষ করে আমরা যারা উন্নত বিশ্বে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি আমাদের দৃষ্টিতে পার্থক্যটা পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে।

বাংলাদেশকে অতীতের সেই ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ধ্যান ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য দ্রুত কমিয়ে আনতে না পারলে দেশটি আরও অনেক পিছিয়ে পড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে গণতন্ত্রকে আধুনিকীকরণ ও শক্তিশালী করা এবং সকল দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা এখন জনগনের দাবি। নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শুরু করলে আসছে নির্বাচিত সরকারের পক্ষে তা শেষ করা সহজতর হবে। কারণ, দীর্ঘদিন থেকে হয়ে আসা বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির প্রতি জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

এদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইদানিং আনুপাতিক ভোটপদ্ধতি নিয়ে চলছে আলোচনা। সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসেন  মুহম্মদ এরশাদ একসময় এই পদ্ধতির কথা প্রথম আলোচনায় এনেছিলেন। কিন্তু ঐ সময় দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এব্যাপারে কোনো উৎসাহ দেখায়নি। ফলে বিষয়টি এখানেই থেমে যায়। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আগামী নির্বাচন আনুপাতিক পদ্ধতিতে করার ব্যাপারে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল উৎসাহ প্রকাশ করছে। তবে এত অল্প সময়ের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে চলে আসা একটি নির্বাচন পদ্ধতিকে হঠাৎ করে পরিবর্তন করাটা সহজ হবে না। কারণ, ভোটারদের আগে বুঝাতে হবে এই আনুপাতিক ভোট পদ্ধতিটা আসলে কি।

তাছাড়া একটা অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে এধরনের এই বিশাল পরিবর্তন আনার অধিকার আছে কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে। তবে এই পদ্ধতি আগামীতে গ্রহণযোগ্য হবে কি হবে না তার সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার সংসদে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন যদি আনতেই হয় তাহলে তা আনবে বাংলাদেশের আসছে জাতীয় সংসদ, একটি নির্বাচিত সরকার। একটি অনির্বাচিত সরকার কর্তৃক এ ধরনের পরিবর্তন আনা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক বলে বিবেচিত হওয়ার সম্ভবনা আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া ইতিবাচক। তাহলে জনগণ কিছুটা হলেও আগে থেকেই সিস্টেমটা বুঝার সুযোগ পাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে নির্বাচনে দুটি ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়। একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট আর অন্যটি আনুপাতিক ভোট। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট হচ্ছে বিশ্বের প্রাচীনতম নির্বাচনি ব্যবস্থা। দীর্ঘকাল ধরে এটাই একমাত্র বিদ্যমান ব্যবস্থা। এই সিস্টেমের সুবিধা হলো, যে প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পায় তিনি নির্বাচিত হন। আরেকটি সুবিধা হলো, এই ব্যবস্থা সংসদীয় স্থিতিশীলতা আনে। তবে এই সিস্টেমের সমালোচকেরা বলেন, এটি প্রায়ই অন্যায্য। কারণ, একটি দল জাতীয় পর্যায়ে শুধুমাত্র ছোট বিজয় অর্জন করে নির্বাচন পরবর্তীতে বড় সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার সম্ভবনা থাকে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন একটি দলও জয়ী হতে পারে যারা পরাজিত দলের চেয়ে মোট ভোট কম পেয়েছে। এছাড়া এই সিস্টেমে দুই ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানে একটি নির্বাচনি এলাকায় মোট তালিকাভুক্ত ভোটারের অর্ধেকেরও বেশি ভোটারকে ভোট প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ মোট প্রদত্ত ভোটের সংখা অর্ধেকেরও বেশির প্রয়োজন হবে। এক কথায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানে একটি নির্বাচনি এলাকায় অর্ধেকেরও বেশি ভোটারের অংশগ্রহণ হতে হবে। আর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অর্থ হলো, প্রার্থীকে মোট প্রদত্ত ভোটের অর্ধেকের বেশি ভোট পেতে হবে। তাহলেই প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। এর মানে, যে প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের কম সংখ্যক ভোট পেয়ে যদি অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশি ভোট পায় তাহলেও তিনি নির্বাচিত হবেন।

আনুপাতিক ভোট পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত আছে। ১৮৮৯ সালে বেলজিয়ামে প্রথম আনুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এটি একটি ন্যায্য ব্যবস্থা হিসেবে সমর্থন পায়। ফিনল্যান্ডে ১৯০৭ সাল থেকে আনুপাতিক নির্বাচনের এর পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ধরনের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মোট ভোটের ফলাফল অনুপাতে আসন লাভ করে। ফলে কোনো একক রাজনৈতিক শক্তি একচেটিয়া অবস্থান বজায় রাখতে পারে না। অন্যদিকে, মোট ভোটের নির্ধারিত শতাংশ ভোট লাভ করলে অন্যান্য দলগুলোরও সংসদে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কারণ, একটি আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থায় দলকে ভোট দানের নিয়ম ব্যক্তিকে নয়। ফলে নির্বাচনি প্রচারণার সময় “ব্যক্তির” পরিবর্তে “রাজনৈতিক আদর্শের” ফোকাস হয় বেশি।

তবে আনুপাতিক ব্যবস্থার একটি প্রধান অসুবিধা হলো এটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে খণ্ডিত করতে পারে যা কখনও কখনও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়াও, দলীয় তালিকার পদ্ধতির অর্থ হলো ভোটারদের নির্বাচিত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।কারন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার সময় রাজনৈতিক দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়। ভোটাররা একটি দলকে ভোট দেয়। পরবর্তীতে দলের পাওয়া মোট ভোটের শতাংশ হিসেবে প্রার্থী তালিকা অনুসারে আসন বণ্টন করা হয়।

আনুপাতিক নির্বাচনে একটি দল সারাদেশের মোট ভোটের কত শতাংশ ভোট পায় তার ওপর নির্ভর করবে সংসদে দলের আসন। কত শতাংশ ভোট লাভ করলে সংসদে আসার অধিকার পাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে একটি নির্বাচিত সংসদ। এই শতাংশ ৫ থেকে ৮ পর্যন্ত করা যেতে পারে। কত শতাংশ রাখা হবে তার সিদ্ধান্তও নিবে দেশের জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ কয়েকটি দল আছে যেখানে দলীয় নেতাদের নিজস্ব নির্বাচনি এলাকা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে একটা আলাদা পরিচয় থাকলেও সারাদেশে দলের সাংগঠনিক কার্যকলাপ, প্রার্থীদের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা নেই। ফলে আনুপাতিক ভোট পদ্ধতিতে তাদের পক্ষে সংসদে আসন পাওয়া কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, বর্তমান পদ্ধতিতে এসকল ছোট ছোট দলগুলোর নেতাদের এলাকাভিত্তিক নিজস্ব জনপ্রিয়তার কারণে তাদের জয়লাভ করার একটা সুযোগ আছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অধিকার থাকে যা আনুপাতিক নির্বাচন সিস্টেমে নেই। একটি আনুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারে না। প্রতিটি দলের পক্ষে পাওয়া ভোট বণ্টনের অনুপাতে দলগুলোর মধ্যে ম্যান্ডেট বিতরণ করা হয়।

সুইডেনে ১৯০৯ সাল থেকে আনুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থা রয়েছে যা জাতীয় সংসদে অনুমোদনের মধ্য দিয়ে কার্যকরী হয়। এই পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ, কাউন্টি কাউন্সিল এবং পৌরসভার নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি দলকে আসন লাভের জন্য দেশের মোট ভোটের চার শতাংশ ভোট পেতে হয়। সুইডেনে ২০২২-২০২৬ নির্বাচন ফলাফলে সংসদে বর্তমানে আটটি রাজনৈতিক দল প্রতিনিধিত্ব লাভ করেছে।

আনুপাতিক নির্বাচনের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো, কখনও কোনো সদস্য ইন্তেকাল অথবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ কিংবা ব্যক্তিগত অন্য কোনো কারণে তার সংসদ পদ হারেলে ঐ আসনে পুনরায় কোনো নির্বাচন হয় না। কারণ, আসনটি দলের জন্য পুরো ম্যান্ডেট পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বহাল থাকে। ফলে দলের নির্বাচনের তালিকা অনুসারে যার নাম ঐ পার্লামেন্ট মেম্বারের পরে থাকে তিনি তখন এমপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়া যে দল সরকারে থাকবে তাদের আসনও সঙ্গে সঙ্গে খালি হয়ে যায়। কারণ, সরকারে গেলে এমপি পদ আর থাকে না। সরকার কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করে না। সরকার নির্দলীয়। সুতরাং সরকারের মন্ত্রি পরিষদে দায়িত্ব গ্রহণ করলে একই নিয়মে দলের তালিকা অনুসারে পরবর্তী প্রার্থী এমপি পদে আসীন হন।

এভাবেই সুইডেনের নির্বাচন চলে এলেও পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সুইডেন আনুপাতিক ভোট পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনে। আর তা হলো, ব্যক্তিগত নির্বাচন সিস্টেম। এ ধরনের সিস্টেমে ভোটারদের পছন্দনীয় একজন প্রার্থীকে দলের তালিকা থেকে নির্বাচিত করতে হলে প্রার্থীর নামের পাশে “X” মার্ক করতে হবে। এই “X” মার্ক করা প্রার্থী নির্বাচিত হতে হলে নির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় নিজ দলের প্রাপ্ত ভোটের কমপক্ষে ৫% ব্যক্তিগত ভোট লাভ করতে হয়। এই নিয়মে ভোটাররা দলের প্রার্থী তালিকা ব্রেক করে নিজের পছন্দমতো শুধুমাত্র একজন প্রার্থীর নামের পাশে “X” মার্ক করতে পারেন। এইভাবে প্রার্থীর নামের পাশে “X” মার্ক দিয়ে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো, এই ভোটারের ভোটে “X” মার্ক পাওয়া প্রার্থী ভোট পাবেন এবং একই সাথে দলও ভোটারের ভোট লাভ করবে। তবে একজন ভোটার শুধুমাত্র একটি দলের তালিকায় ভোট দিতে পারবেন। একের অধিক কোনো তালিকা কিংবা অন্য  কোনো রাজনৈতিক দলে ভোট দেওয়ার নিয়ম নেই।

আনুপাতিক নির্বাচনের নীতি হলো একটি নির্বাচন এলাকার আসনগুলো প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা আনুপাতিক পদ্ধতিতে দলের মধ্যে বন্টন করা হয়। এই পদ্ধতিতে নির্বাচনি এলাকার জন্য দুটি মৌলিক মডেল প্রযোজ্য। এক সম্পূর্ণ আনুপাতিকতা এবং দুই সীমিত আনুপাতিকতা। সম্পূর্ণ আনুপাতিকতা তখনই হয় যখন সমগ্র দেশকে একটি নির্বাচনি এলাকা হিসেবে ধরা হয় এবং এইভাবে প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের ফলাফল যতটা সম্ভব প্রতিফলিত করে। সুইডেনে ইইউ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো এই নিয়মে সারাদেশে একটি প্রার্থী তালিকার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। সীমিত আনুপাতিকতার অর্থ হলো এলাকাভিত্তিক নির্বাচন এবং আসন বণ্টন এই স্তরেই হয়ে থাকে। ফলে স্থানীয় বণ্টনে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদে আসন পাওয়ার সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ পশ্চিমা গণতন্ত্রে আনুপাতিক নির্বাচনি ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যক্তিগত প্রার্থী পছন্দ ভোটারের ঐচ্ছিক। ইচ্ছা করলে পছন্দনীয় প্রার্থীর নামের পাশে “X” করবে না, চাইলে শুধুমাত্র দলকে ভোট প্রদান করবে। সুইডেনে ২০২২ জাতীয় নির্বাচনে আমার রাজনৈতিক দল ভেন্সতার পার্টি (লেফট পার্টি) থেকে একজন এবং রক্ষণশীল দল মোডারেট থেকে একজন মোট দুইজন প্রার্থী ব্যক্তিগত “X” মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের আসছে নির্বাচন নিয়ে বর্তমানে চলছে আলোচনা। সকল রাজনৈতিক দল এখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছে। কোনো কোনো দল আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে কথা বলছে। তবে আসছে নির্বাচন আনুপাতিক হারে করাটা যুক্তিসঙ্গত হবে না। কারণ, একটি দেশের নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র জাতীয় সংসদের। অর্থাৎ একটি নির্বাচিত সরকারের। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ হবে বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি ন্যায্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। এই লক্ষ্যে নির্বাচন সংস্ক্রান্ত বিষয়গুলোতে দ্রুত সংস্কার করে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তবে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানের আলোচনা অবশ্যই আগামীতে আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতিতে একটা ইতিবাচক ভুমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। তাছাড়া সময় পেলে বাংলাদেশের জনগণ আনুপাতিক নির্বাচনের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা নেওয়ার সুযোগও পাবে। ব্যক্তিগতভাবে আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারি, বাংলাদেশে প্রয়োজন একটি আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি যা বহুদলীয় গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, ইলেকটেড মেম্বার লেফট পার্টি (ভেন্সতার পার্টি) স্টকহল্ম ডিসট্রিক্ট ব্রাঞ্চ, সাবেক ইলেকটেড মেম্বার, মনোনয়ন বোর্ড লেফট পার্টি (ভেন্সতার পার্টি) সেন্ট্রাল কমিটি
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।
   

About

Popular Links

x