আগামী ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবে। সবাই এখন অপেক্ষায় আছে ঐতিহাসিক দিনটির জন্য। তবে সবকিছু নির্ভর করবে নির্বাচন চলাকালীন পরিস্থিতির ওপর। নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব ও নির্বাচনি পরিবেশ ঠিক রাখতে পারলে আর কোনো প্রশ্ন আসার কথা নয়।
নির্বাচনে অংশগ্রহন করা কিংবা না করা যার যার নিজস্ব ব্যাপার। নির্বাচন বয়কট ও বর্জনের আন্দোলন সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু পরিলক্ষিত হরতাল, ধর্মঘট, বোমাবাজি আর সন্ত্রাসী কার্যকলাপে এই নির্বাচন আর বানচাল করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সবারই দৃষ্টি ৭ জানুয়ারির দিকে।
তবে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নৌকার প্রার্থীদের কিছু কিছু ভূমিকা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। হুমকি-ধামকিসহ প্রশাসনের কথা বলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার কথা গণমাধ্যমে আসছে। এ ব্যাপারে বিলম্ব না করে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনে এ ধরনের প্রার্থীদের নির্বাচনের প্রার্থিতা ৭ জানুয়ারির আগেই বাতিল করা হলে নির্বাচন ন্যায়সঙ্গত হবে বলে অনেকে মনে করছেন। স্বতন্ত্রদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন দলসহ আওয়ামী লীগ আদর্শে বিশ্বাসী প্রার্থীরাও আছেন।
এবার সমালোচিত কিছু কিছু সাবেক এমপিকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়নি। অবশ্যই এটা একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। দলের মনোনয়ন না পেয়ে তাদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আবার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন এমন প্রার্থীও আছেন।
জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের) দলের প্রার্থীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ইতোমধ্যেই মিডিয়ায় তুলে ধরেছে। শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে থাকা না থাকার প্রশ্ন পর্যন্ত তোলা হয়েছে। এখন সত্যি সত্যি যদি জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের) শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে আসে তাহলে নির্বাচন নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা আছে।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নৌকার প্রার্থীদের দ্বারা অন্যান্য দলের প্রার্থীদের প্রতিদিন ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুপরিচিত বেক্তি ব্যারিস্টার সুমনের প্রতিপক্ষ জনৈক মন্ত্রী ও গাজীপুরের জনৈক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা নানা ধরনের অভিযোগ করছেন। নৌকার এসব প্রভাবশালী প্রার্থীদের কারণে নির্বাচনের পরিস্থিতি খারাপ হলে সেসব এলাকার নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট নেওয়া উচিৎ হবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।
আওয়ামী লীগ আদর্শবাদীরা মনে করেন, নৌকার প্রার্থীদের কারণে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হলে প্রয়োজনে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে যেসব প্রার্থী বেআইনি কাজে অংশগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশনকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেখাতে হবে। এ ব্যাপারে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও নৌকার প্রার্থীদেরও ছাড় দেওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে কোনো কোনো মন্ত্রী, সাবেক কয়েকজন এমপি ও আওয়ামী লীগের পরিচিত কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এসেছে। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে কয়েকজন প্রাণও হারিয়েছে। এদের কারণেই এখন ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
জনগণের অংশগ্রহণ ও একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন উপহার দেওয়া এখন কমিশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বাংলাদেশের জনগণ এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে। শুধুমাত্র কথায় নয় কাজে ও কর্মে দেখাতে হবে প্রমাণ। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রচারণা দেখে আপাতত বলা যেতে পারে জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কোনো ধরনের বাধা জনগণকে আর আটকাতে পারবে না। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের ওপর। তাদের সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা এখানে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।
নৌকার প্রার্থীরা কি পারবেন সেই সহনশীলতা দেখাতে?



