Monday, June 17, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবারের দূরে থাকা সদস্যদের নিয়ে উদ্বিগ্নতায় ভুগছেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই তাদের উদ্বিগ্নতার প্রমাণ মিলছে

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০৩:০২ পিএম

বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। রিমালের প্রভাবে সারাদেশেই ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

রবিবার (২৬ মে) রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলাসহ উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকটি জেলা রাত থেকেই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও ভোলা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গাছপালা ‍উপড়ে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের রাস্তাঘাট।

উপকূলীয় জেলাগুলোয় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাঁধ ভেঙে ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে এসব এলাকার নদী তীরবর্তী অঞ্চল। রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় এসব এলাকার অধিকাংশ গ্রাহকের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় এসব এলাকার মানুষের দূরে থাকা স্বজনদের অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পেরে উদ্বিগ্নতায় ভুগছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই তাদের উদ্বিগ্নতার প্রমাণ মিলছে। অনেকেই নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে কিংবা এলাকাভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে এলাকার সর্বশেষ খবর জানতে চাইছেন, জানাচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজের উৎকণ্ঠার কথা।

এরকম পরিস্থিতিতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা খুব স্বাভাবিক। কিন্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থায় অতিরিক্ত উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে নিজেকে শান্ত রাখার জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-

দীর্ঘসময় ধরে কোনো এলাকা বিদ্যুৎবিহীন থাকলে সেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট সময় পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেই উদ্বিগ্নতায় ভুগবেন না। ধৈর্য ধরুন, অপেক্ষা করুন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মোবাইল ফোন ও নেটওর্য়াক সচল হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চয়ই হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, গাছপালা উপড়ে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ আসতে দুই থেকে তিনি দিনও লেগে যেতে পারে। তাই আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।

পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পারলে, নিকটবর্তী কোনো এলাকার আত্মীয় স্বজন বা বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিতে পারেন। যদি তাদের এলাকার পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো থাকে তাহলে তাদের মাধ্যমে নিজের এলাকা ও পরিবারের খবর পেয়ে যেতে পারেন। তবে একদমই যোগাযোগ করতে না পারলে বিরুপ আবহাওয়ায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা করা ঠিক হবে না। অপেক্ষা করুন আবহাওয়া শান্ত না হওয়া পর্যন্ত। মোটকথা, জরুরি এই পরিস্থিতি ধৈর্য ধরার কোনো বিকল্প নেই।

দুযোর্গপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রায় সব জেলাতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সেল ও আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য হটলাইন নম্বর খোলা হয়েছে। প্রয়োজনে এসব নম্বরে যোগাযোগ করে এলাকার সর্বশেষ অবস্থা জানা যেতে পারে।

ফেসবুকে এলাকার তথ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এমনও হতে পারে যে, এলকার যা অবস্থা তার চেয়ে কেউ বাড়িয়ে বলছে। যা আপনার মনকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে। এছাড়া অনলাইনে অনেক ক্ষেত্রেই খন্ডিত অংশের ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হতে পারে, যা বাস্তব অবস্থার চেয়ে বেশি ভয়াবহ মনে হতে পারে। এক্ষেত্রে মূলধারার সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে ভরসা রাখুন। অন্য যেকোনো অনলাইন মাধ্যম থেকে খবর নেওয়া এড়িয়ে চলুন।

নেতিবাচক খবর আপনার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই যতটা সম্ভব ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ দেখা এড়িয়ে চলতে পারেন। নিজেকে শান্ত রাখতে এ সময় নিজের শখের কোনো কাজ করতে পারেন। কিংবা করতে পারেন বিশেষ কোনো প্রার্থনা বা মেডিটেশন।

পরিশেষে মনে রাখতে হবে যে, আপনার উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা এই সময়ে আপনার পরিবারের কোনো উপকারে আসবে না। বরং তা হয়ে উঠতে পারে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর অস্থির অবস্থায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন এবং তাতে ভুল হওয়ারও সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই নিজেকে শান্ত রাখার কোনো বিকল্প একেবারেই নেই।

About

Popular Links