রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত মহানগর বিএনপির সম্মেলনের মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন কণ্ঠশিল্পী গৌরব হোসেন। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের ভগ্নিপতি। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান-সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত মহানগর বিএনপির সম্মেলনের মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তিনি। এ নিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ৫ আগস্ট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবং গতকাল রবিবার মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন গৌরব হোসেন।
জানা গেছে, কণ্ঠশিল্পী গৌরব হোসেনের বাড়ি রাজশাহী নগরীতে। তার শ্বশুরবাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলায়। গৌরবের স্ত্রী সেতু এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের ফুফাতো বোন। পলক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে গৌরবকে ‘‘নগদে’’ চাকরিও দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ আছে।
গৌরবের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, পলকের সঙ্গে তার অসংখ্য ছবি আছে। ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর গৌরব একটি ছবি পোস্ট করেন, সেখানে তার নিজের ছবির সঙ্গে লেখা আছে, ‘‘নৌকা মার্কায় ভোট দিন।’’ ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রতিমন্ত্রী পলকের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি পলককে নিয়ে লেখা একটি কবিতা দেন। তার শেষ কয়েকটি লাইন এমন, ‘‘...আবারও বাংলাদেশ পেল তাকে, জিতল নৌকা, হলো জয়, জয় বাংলা, বাংলার জয়।’’ এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পলকের পাশে ছবি তুলে পোস্ট করেছেন গৌরব।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকও বিভিন্ন সময় গৌরবের মিউজিক ভিডিও শেয়ার করে তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন। তার স্ক্রিনশটও নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেছেন গৌরব। গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামকে ‘‘প্রগতিশীল পুলিশ কর্মকর্তা’’ হিসেবে উল্লেখ করে তার জন্মদিনেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গৌরব।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহাম্মেদ (রজার্স সাব্বির)। তিনি লিখেছেন, ‘‘রাজশাহী মহানগরের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন গৌরব। গৌরব কে? গৌরব সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা। বিপ্লবী জুলাইয়ের ঘাতক ও অন্যতম পরিকল্পনাকারী সংসদ সদস্য পলকের বোন জামাই। আমাদের কিছু শ্রদ্ধেয় নেতার প্রচেষ্টায় আজ বিএনপির সম্মেলনে গৌরব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন, যার হাতে এখনো খুঁজলে আমাদের বিপ্লবী ভাইদের রক্ত পাওয়া যাবে। ছিঃ ছিঃ ছিঃ।’’
যুবদল নেতা সাব্বিরের পোস্টে পলকের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ধারণ করা গৌরবের ছবিও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে ২০ জন বিএনপির সমর্থক শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেছেন। কিশোর আপন নামের একজন লিখেছেন, ‘‘ভাই কিছুদিন আগেও আলুপট্টিতে বিএনপির দলীয় প্রোগ্রামে কালচারাল ইভেন্টের দায়িত্বে গৌরব ছিল।’’ সৌদিয়া জামান মিম নামের একটি আইডি থেকে একজন লিখেছেন, ‘‘এত অস্থির হলে তো হবে না রজার্স ভাইয়া, অনেক নমুনা দেখতে পাবেন। একটু অপেক্ষায় থাকেন, আওয়ামী লীগের সময় যারা কাজ করেছে, বিএনপির সময় তারাই কাজ করবে... শুভকামনা।’’
দলের স্থানীয় এক নেতা জানান, শুধু গৌরব একা নন, তার পুরো পরিবার কট্টর আওয়ামীপন্থী। তার স্ত্রী সেতুকে রাজশাহী আর্ট কলেজের শিক্ষক হিসেবে চাকরি দিয়েছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গৌরব আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মঞ্চে গান গেয়েছেন। তাকে বিএনপির মঞ্চে দেখতে হবে, তা তারা ভাবেননি।
পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাব্বির আহাম্মেদ বলেন, ‘‘আমার জানা মতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শাহীন শওকত তাকে কন্ট্রাক্ট করেছেন। আমি তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু অনুষ্ঠানের ঝামেলার কারণে যোগাযোগ করতে পারছি না। এই গৌরব আওয়ামী লীগের পাওয়ার খাটিয়ে তাদের পুলিশ একাডেমির অনুষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছেন। এখন তিনি কোন ক্ষমতায় বিএনপির মঞ্চে গান করছেন?’’
অভিযোগের বিষয়ে কণ্ঠশিল্পী গৌরবের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোন ধরেননি।



