Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তৈমূর: গণগ্রেপ্তার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বাধা তৈরি করবে

তৈমূর বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার কমিটমেন্ট দিয়েছেন নির্বাচন সুষ্ঠু করবেন। তিনি তার কমিটমেন্ট রক্ষা করবেন। যদি এটা রক্ষা করতে না পারেন তাহলে যে সংকট হবে এ সংকটের প্রধান ভিকটিম প্রধানমন্ত্রী নিজে হবেন

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:০৮ পিএম

গণগ্রেপ্তার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বাধা তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

তিনি বলেছেন, “বিএনপি যারা করে সবাই গাড়ি জ্বালায় না। আমি দেখছি যারা বিএনপি করে কেউ বাড়ি থাকতে পারে না। প্রশাসনকে অনুরোধ করবো- আপনারা নিশ্চিত হন, যারা গাড়িতে আগুন দেয় না, তাদের বাড়িতে থাকতে দিন। গণগ্রেপ্তার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বাধা হতে পারে।”

বুধবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন কমিশনের অফিসে মনোনয়ন পত্র জমা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

তৈমূর বলেন, “আমরা সকলে মিলে দেশকে রক্ষা করতে চাই। দেশটাকে রক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এবার কমিটমেন্ট দিয়েছেন নির্বাচন সুষ্ঠু করবেন। তিনি তার কমিটমেন্ট রক্ষা করবেন, আমি বিশ্বাস করি। তিনি যদি এটা রক্ষা করতে না পারেন তাহলে যে সংকট হবে এ সংকটের প্রধান ভিকটিম প্রধানমন্ত্রী নিজে হবেন।”

তিনি বলেন, “আমি জীবনভর হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে লড়েছি। এখনো লড়াই করবো। আমি মজলুমদের রাজনীতি করি। হেভিওয়েটরা সবসময় মজলুমদের নির্যাতন করে। রূপগঞ্জে আজ আওয়ামী লীগের লোকজনও থাকতে পারে না। তাদের জমিও দখল হয়ে গেছে। পিএসরা এগুলো করে। আমি অতীতেও পিএস রাখিনি, ভবিষ্যতেও রাখবো না। আমি পাঞ্চায়েত করবো, তারা এলাকা পরিচালনা করবে।”

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার পদও পেয়েছিলেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন। খালেদা জিয়া সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা প্রয়াত নাজমুল হুদার দল “তৃণমূল বিএনপি”তে যোগ দিয়ে মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার।

অন্যদিকে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছে দলটি। ৭% ভোটারের সমর্থন থাকা জাতীয় পার্টি ছাড়া বড় কোনো দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ অবস্থায় ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেয় তৃণমূল বিএনপি। এরপর থেকেই দলটি আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির মহাসাবেশ পণ্ড হয়। এরপর থেকেই হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে যায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে থাকা বিএনপি। তাদের সঙ্গে এসব কর্মসূচি পালন করছে সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল ও জোটগুলো। বিএনপির রাজনৈতিক সক্রিয়তা এই মুহূর্তে প্রায় নেই বললেই চলে। দলটির শীর্ষ নেতারা কারাগারে আর কারাগারের বাইরে থাকা নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে ও পালিয়ে বেরাচ্ছেন। বিএনপির হিসেবে গত ২৮ অক্টোবরের দুয়েকদিন আগে থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত দলটির ১৭ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তৈমূর আলম গণগ্রেপ্তারের বিষয়ে কথা বললেন।

রাজনৈতিক বিরোধপূর্ণ অবস্থায় আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ঠিক রেখে তফসিল দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

   

About

Popular Links

x