গণগ্রেপ্তারের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে অপরাধী সাব্যস্ত না হয়, গ্রেপ্তার না হয়- সেই ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শোকের মাস আগস্টের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করতে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এ বৈঠক করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে কোনো অবস্থায় হয়রানি করা যাবে না। গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য কেউ যাতে অতি উৎসাহী হয়ে নিরপরাধী কাউকে ধরে না ফেলেন। এটা যাতে কোনো অবস্থায় না হয়, সেই ব্যাপারে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
“সরকার অসহায় শিক্ষার্থীদের আটক ও নির্যাতন করছে”- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যকে “নির্লজ্জ মিথ্যাচার” বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, “আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করছে। আমাদের জানামতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে না। নিরীহ ও সাধারণ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।”
মির্জা ফখরুলের কাছে সবাই নিরপরাধ, সবাই অসহায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুলের কাছে সবাই নিরপরাধ, সবাই অসহায়; তাহলে প্রশ্ন- এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাল কারা? কারা অগ্নিসংযোগ করল, রাষ্ট্রের সম্পদ ভস্মীভূত করল, বাংলাদেশে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ কারা করেছে?”
তিনি আরও বলেন, “আজ কথায় কথায় সরকার ও আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করা হয়। এ ঘটনা প্রবাহে আমরা আক্রান্ত, আক্রমণকারী ছিলাম না। এখন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের হাতে অস্ত্র ছিল না। আজ অনেকেই বলে, আওয়ামী লীগের লোকজন কম ছিল, অনুপস্থিত ছিল। আমি বলতে চাই, দলীয় লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত হয়ে কোথাও অবস্থান নিতে বলা হয়নি। আমরা তো আক্রান্ত হয়েছি। নিরস্ত্ররা সশস্ত্রদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি।”
মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে কাদের বলেন, “সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। কোথা থেকে নির্দেশ এসেছে, উসকানি এসেছে, কোথায় কোথায় বৈঠক করেছেন, অর্থ যুগিয়েছেন, কোন কৌশলে অর্থ পাঠিয়েছেন- সেটা আমরা জানি। সকল ষড়যন্ত্র এখন জাতির কাছে দিবালোকের মত স্পষ্ট। মিথ্যার বেসাতি করে, আবোল-তাবোল বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।



