বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ২০২৪ সালের আয় ও ব্যয় বিবরণী জমা দিয়েছে।
ইসিতে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ সালে বিএনপির আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা, যা আগের বছরের আয়ের চেয়ে ১৩১৩% বেশি।
আর ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকা। এছাড়াও ব্যাংকে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা জমা রয়েছে বলে হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে হাজির হয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদের কাছে বিএনপির এই আর্থিক আয়-ব্যয় বিবরণী জমা দেয় দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, সদস্যদের মাসিক চাঁদা, বই-পুস্তক বিক্রি, ব্যাংক সুদ ও এককালীন অনুদান থেকে আয় হয়েছে। আর ব্যয় হয়েছে ব্যক্তিগত সহযোগিতা, দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, লিফলেট-পোস্টার ইত্যাদি ছাপানোয়।
এসময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল, তারা নির্বাচন বানচালে চক্রান্ত করতে পারে। সেগুলো সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে। জনগণ প্রত্যাশা করে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করবে বর্তমান কমিশন।”
হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকা। দলের হিসাবে জমা আছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা।
এর আগে, ২০২৩ সালে বিএনপির আয় হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা।
২০২২ সালে আয় ছিল ৫ কোটি ৯২ লাখ ৪ হাজার ৬৩২ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৩ টাকা।
২০২১ সালে আয় ছিল ৮৪ লাখ ১২ হাজার ৪৪৪ টাকা। ব্যয় হয়েছিল এক কোটি ৯৮ লাখ ৪৭ হাজার ১৭১ টাকা।
২০২০ সালে আয় ছিল ১ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৯ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫২ হাজার ৫১৩ টাকা।
প্রসঙ্গত, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী পর পর তিন বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
বর্তমানে ইসিতে আওয়ামী লীগসহ নিবন্ধিত দল ৫১টি হলেও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ৫০টি দলকে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে ইসি।



