Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খাজা ভবনের ডাটা সেন্টারে ক্ষতি, ৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিপাকে

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সভাপতি বলেন,  খাজা ভবনে দুটি ডাটা সেন্টার ছিল। একটি পুড়ে গেছে; অন্যটি কী অবস্থায় আছে- তা এখনই বলা যাবে না

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪৪ পিএম

ঢাকার মহাখালীর খাজা টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফাইফ-জি নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা বাংলাদেশে এখন উচ্চগতির (ব্রডব্যান্ড) ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া প্রায় আড়াই কোটি মোবাইল ফেন ব্যবহারকারীও ইন্টারনেট ও ভয়েস কলের নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে খাজা টাওয়ারে আগুন লাগে। ১৬ ঘণ্টা পর শুক্রবার আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

দেশে বর্তমানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে অন্তত ৪০% তথা প্রায় ৫০ লাখ ব্যবহারকারী বিপাকে পড়েছেন। তারা এরমধ্যে ইন্টারনেট সেবার বাইরে চলে গেছেন।

অপরদিকে, দেশের মোট মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর (১১ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার) অন্তত ২০% প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট পাচ্ছেন না। ভয়েস কলেও তারা ঝামেলা পোহাচ্ছেন। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য অ্যাপনির্ভর যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।  ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলে আমরা এসেমেন্ট করতে পারতাম যে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত ইন্টারনেট সেবা চালু করতে আমাদের কী কী প্রয়োজন। যেসব ডিভাইস পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো বিকল্প যোগাড় করতে হবে। প্রয়োজনে বিমানে করে সেগুলো আনতে হবে। আমাদের যত দ্রুত ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে তত দ্রুত আমরা সমাধান দিতে পারবো।”

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে সারাদেশের মোট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৪০% এখন ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে না। খাজা ভবনে দুটি ডাটা সেন্টার ছিল। এনআরবি নামেরটি পুড়ে গেছে আর ঢাকা কোলা নামের অপর ডাটা সেন্টারটির কী অবস্থায় আছে- তা না দেখে এখনই ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা যাবে না।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, খাজা টাওয়ারে অবস্থিত আইআইজিগুলোর (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান শাটডাউন হয়ে গেছে। একটি আইআইজি থেকে অন্তত ৫০-৭০টি আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) ব্যান্ডইউথ নিয়ে থাকে। ফলে একটি বিপুল সংখ্যক আইএসপি (৫০০-৭০০) এখন ইন্টারনেট সেবা দিতে পারছে না।

এ বিষয়ে আইআইজি ফোরামের মহাসচিব আহমেদ জুনায়েদ বলেন, “কয়েকটি আইআইজি (লেভেল থ্রি, ম্যাক্স হাব, আমরা নেটওয়ার্কস, আর্থনেট, ভার্গো, ও উইনস্ট্রিম ইত্যাদি আইআইজি) পুরোপুরি শাটডাউন হয়ে গেছে। বড় দুই একটি আইআইজি ব্যাকআপে চলে যাওয়ায় ভোগান্তির হার কিছুটা কম হবে।”

জানা যায়, দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে থাকে লেভেল থ্রি, সামিট কমিউনিকেশন্স, ফাইবার অ্যাট হোম ও আমরা নেটওয়ার্কস।  এরমধ্যে আমরা নেটওয়ার্কস আইআইজি পুরোপুরি বসে গেছে। লেভেল থ্রি পুরোপুরি বসে গেলেও এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৯৫% ব্যান্ডউইথ ব্যাকআপে চলে গেছে। ফলে মাত্র ৫% ব্যান্ডউইথে সমস্যা হচ্ছে লেভেল থ্রির।

অন্যদিকে সামিট কমিউনিকেশন্স ও ফাইবার অ্যাট হোম ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় তাদের ব্যান্ডউইথ সরবরাহ ঠিকঠাক রয়েছে। অন্য দুটি আইআইজির কারণে মোবাইল ইন্টারনেটে ২০ শতাংশ গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন। তবে মোবাইল অপারেটরগুলোর ইন্টারকানেক্টিভিটিতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আইসিএক্সগুলো (ইন্টারকানেকশান এক্সচেঞ্জ) খাজা টাওয়ারে হওয়ায় মোবাইল কলে (ভয়েসে) গ্রাহকরা সমস্যা পড়েছেন। ভয়েস কল করতে সমস্যা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় লাগছে কল জেনারেট হতে, কল কেটেও যাচ্ছে যাচ্ছে।

যদিও এই বিষয়ে মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন এমটব এই বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, রাজধানীর মহাখালীতে বহুতল ভবন খাজা টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে মোবাইল অপারেটদের একে অপরের মধ্যে ভয়েস কলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভবনে ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) থাকার কারণে এমনটি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইসিএক্স অপারেটরদের সহযোগিতায় মোবাইল অপারেটররা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা অন্যত্র পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করি দ্রুতই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে।

আইএসপিএবির সাবেক সভাপতি আমিনুল হাকিমের কাছে জানতে চাইলে বলেন, “খাজা টাওয়ারে অগ্নিকোণ্ডে সব মিলিয়ে ৫ শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে আইআইজিগুলোর ক্ষতির পরিমাণ ৩০০-৩৫০ কোটি টাকার মতো।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব ডিভাইস পুড়ে বা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো ঠিক করা যাবে না। অপরদিকে বাজারে ডিভাইসের ঘাটতি, সরবরাহেও স্বল্পতা আছে। ফলে কতদিনের মধ্যে এগুলো সংগ্রহ করা যাবে তার ওপর নির্ভর করছে সমস্যার সমাধান।”

আমিনুল হাকিম জানান, “বর্তমানে দেশে ৫০০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হচ্ছে। আইআইজিগুলো শাটডাউন হয়ে যাওয়ার ফলে এরমধ্যে ১২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ কম হচ্ছে। কিছু কিছু আইএসপি একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যান্ডউইথ ব্যাকআপ রাখায় সরবরাহ ঘাটতি কিছুটা কম হতে পারে। তবে এতে করে খুব বেশি লাভ হবে না। ইন্টারনেট ধীরগতির হবে। কোথাও কোথাও ইন্টারনেট একেবারে পাওয়া যাবে না।”

About

Popular Links