ঢাকার বেইলি রোডে বহুতল ভবনে আগুনের সূত্রপাত চুলা থেকে বা গ্যাস লিকেজ থেকে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
আর ভবনের প্রতিটি ফ্লোরেই গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে গ্রিন কোজি কটেজ নামে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ‘‘কাচ্চি ভাই’’ নামের একটি খাবারের দোকানে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভবনটিতে অন্তত ছয়টি রেস্টুরেন্ট, ইলেকট্রনিকস ও কাপড়ের দোকান ছিল বলে জানা গেছে।
দিবাগত রাত ২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাত সোয়া ১টার দিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির সামনে সাংবাদিকদেরকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, “আমার ধারণা চুলা থেকে অথবা গ্যাস লিক থেকে আগুন হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “দ্বিতীয় তলা ছাড়া প্রতিটি তলাতে এমনকি সিঁড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার ছিল। এ জন্য এটা বিপজ্জনক।”
এই ভবনে ওঠানামার জন্য কেবল একটি পথই ছিল বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের প্রধান। এই আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি। এরপরই ভবনটি নিরাপদ হবে কি-না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একের পর এক মানুষদেরকে বের করে আনার সময় বোঝা যায়নি কত মর্মান্তিক খবর অপেক্ষা করে আসছে।
এদিকে এ ঘটনায় এখনও অনেকেই নিখোঁজ। হতাহতদের নিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স আসছে হাসপাতালে। সেখানেই ভিড় করছেন হতাহতদের স্বজনরা। কর্তব্যরত পুলিশ ও ডাক্তারদের ছবি দেখিয়ে নিখোঁজদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা। তবে চিকিৎসকরা দিচ্ছেন অপেক্ষার পরামর্শ। স্বজনদের খুঁজে না পেয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছেন ও চিৎকার করে কাঁদছেন অনেকেই।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান জানান, ভবনটির তৃতীয় তলায় একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে বাকি তলার প্রত্যেকটিতে খাবারের দোকান।
এই দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা হবে এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, এই ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে সিঁড়িতে ৩৫ কেজি ওজনের গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল, এখানে সিলিন্ডার রাখার কোনো সুযোগ নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত। দ্রুতই আগুন উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে থাকা লোকজন আতঙ্কে উপরে উঠে যায়। ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের মধ্যে ৩৩ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং ১০ জনের মরদেহ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে রাখা হয়েছে। আর ভবনটি থেকে ১১৭ জনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানান সংস্থাটির মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন।



