গেটের বাইরে মানুষের চাপে ঢাকার বেইলি রোডের আগুনে হতাহতদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।
এদিকে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের সুবিধার্থে জরুরি বিভাগের বাইরের গেটে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলো পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তুলে দিয়েছে। তবুও মানুষের ভিড়ে অ্যাম্বুলেন্সকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেকক্ষণ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হ্যান্ড মাইক, বাঁশি ও লাঠি ব্যবহার করছেন আনসার সদস্যরা।
এ সময় আনসার সদস্যরা হ্যান্ড মাইকে বারবার সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও জনতা কথা শুনছেন না।
এ ঘটনায় যারা আগুনে না পুড়েও বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে আনা হচ্ছে। অধিকাংশই লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিজভী আহমেদ।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে গ্রিন কোজি কটেজ নামে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ‘‘কাচ্চি ভাই’’ নামের একটি খাবারের দোকানে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
দিবাগত রাত ২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন জানান, অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত। দ্রুতই আগুন উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে থাকা লোকজন আতঙ্কে উপরে উঠে যায়। ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের মধ্যে ৩৩ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং ১০ জনের মরদেহ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে রাখা হয়েছে। আর ভবনটি থেকে ১১৭ জনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এদিকে এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানান সংস্থাটির মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন।



