Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘আমি কী পাপ করেছি যে এত বড় শাস্তি পেলাম!’

‘আমার বোন ফোন করে আগুন লাগার কথা জানায়। পাশে থাকা ভাগ্নি চিৎকার করে বলছিল, মামা আমাদের বাঁচাও। আমরা বের হতে পারছি না’

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ১২:৩০ পিএম

ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে “কাচ্চি ভাই” রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে লাশ হয়েছেন পপি পোদ্দার ও তার মেয়ে আদৃতা (১২) আর ছেলে সংকল্প (৬)।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ওই ভবন থেকে অনেকের সঙ্গে তাদেরকেও উদ্ধার করে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

হাসপাতালের মর্গের সামনে আহাজারি করছিলেন পপি পোদ্দারের মা বাসনা পোদ্দার আর ভাই পীযূষ পোদ্দার। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন অন্য স্বজনরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাসনা পোদ্দার বলছিলেন, “আমি কী পাপ করেছি যে এত বড় শাস্তি পেলাম! সব শেষ হয়ে গেল।”

পীযূষ বলেন, “আমাকেও খেতে যাওয়ার জন্য ফোন করেছিল। কিন্তু আমি যাইনি। টিভিতে খেলা দেখছিলাম। একটু পর আমার বোন ফোন করে আগুন লাগার কথা জানায়। পাশে থাকা ভাগ্নি চিৎকার করে বলছিল ‘মামা আমাদের বাঁচাও। আমরা বের হতে পারছি না’। আমি দৌড়ে সেখানে গিয়ে দেখি রেস্টুরেন্টে শ্মশানের মতো আগুন জ্বলছে। বাইরে থেকে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।”

স্বজনরা জানান, পপি পোদ্দার ছিলেন গৃহিণী। তার স্বামী শিপন পোদ্দার একজন ব্যবসায়ী। বড় মেয়ে আদৃতা সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। আর ছেলে সংকল্প পড়ত প্রথম শ্রেণিতে, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে।

স্বজনরা আরও জানান, খবর পেয়ে পরিবারের সবাই মিলে ওই ভবনের সামনে যান। তখন ভবনে আগুন জ্বলছিল। আগুন একটু কমে যাওয়ার পর অপরিচিত একজন একটা ব্যাগ তাদের হাতে দেয়। ওই ব্যাগটি পপির ভ্যানিটি ব্যাগ বলে তারা চিনতে পারেন। সেখানে পপির মোবাইল ফোন, আইডি কার্ড, টাকা সবই ছিল।

বাসনা পোদ্দার আহাজারি করে বলছিলেন, “আমি এই ব্যাগ দিয়ে কী করব! আমার মেয়ে নাতি-নাতনিরা কেউ তো নাই। আগুন তাদের শেষ করে দিল।”

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ‘‘কাচ্চি ভাই’’ রেস্টুরেন্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত। দ্রুতই আগুন উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে থাকা লোকজন আতঙ্কে উপরে উঠে যায়। ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানান সংস্থাটির মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন।

টাইমলাইন: বেইলি রোডে আগুন
০১ মার্চ ২০২৪, ১২:১৯
‘আমি কী পাপ করেছি যে এত বড় শাস্তি পেলাম!’
   

About

Popular Links

x