Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছেলের কাচ্চি খাওয়ার আবদার পূরণ করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন এষা

আগুন দেখে ছেলেসহ নিজের স্বজনদের বের কর দিয়েছিলেন এষা। তবে শেষে নিজে আর বের হতে পারেননি

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ০৭:৩৭ পিএম

ছোট্ট ছেলের আবদার পূরণ করতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের “কাচ্চি ভাই”-এর শাখায় যান তানজিনা এষা। সঙ্গে একমাত্র ছেলে ৬ বছরের আরহামসহ ছিলেন আরও কয়েকজন। তবে বৃহস্পতিবারের (২৯ ফেব্রুয়ারি) অগ্নিকাণ্ডে মারা গেলেন এষা।

এষার মামাতো ভাই নাজমুস সাকিব তুষ্টি জানান, আগুন দেখে ছেলেসহ নিজের স্বজনদের বের কর দিয়েছিলেন এষা। তবে শেষে নিজে আর বের হতে পারেননি। তার আগেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়।

নাজমুস সাকিব জানান, এষা পিরোজপুরে লেখাপড়া শেষ করে ঢাকায় ইডেন কলেজে ভর্তি হন। সেখানে লেখাপড়া শেষে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার কাচ্চি খেতে এষা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ছেলে আরহাম, খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী, দুই সন্তান ও শ্যালককে।

নাজমুস সাকিব আরও জানান, হোটেলে আগুন লাগলে তানজিনা এষা তার ছেলে আরহাম, খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী লামিয়াসহ অন্যদের বের করে দিয়ে নিজে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তখন অন্য আরেকজন বের হওয়ার চেষ্টা করেন। একই সময়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। বিকট শব্দ হয় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে কক্ষ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে শ্বাস আটকে যায় তানজিনা এষার। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান তিনি।

নাজমুস সাকিব তুষ্টি জানান, তানজিনা এষার সঙ্গে থাকা অভির স্ত্রী লামিয়া হোটেল থেকে বের হয়ে জানায়, তানজিনা এষা হোটেলের আগুনে আটকা পড়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এষার শ্বশুর নাসির আহমেদ পিরোজপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। শ্বশুরের বাসা শহরের নড়াইলপাড়া এলাকায়। এষার স্বামী নাদিম আহমেদ ঢাকায় এসটি স্টিল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আর এষা একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাদের একমাত্র ছেলে আরহাম মালিবাগের সাউথ পয়েন্ট স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

নাদিম আহমেদের চাচা সাকিল আহমেদ বলেন, “আরহাম কাচ্চি খাবে বলে মায়ের কাছে আবদার করেছিল। ছেলের আবদার পূরণে বেইলি রোডে থাকা “কাচ্চি ভাই”-তে গিয়েছিল তারা।”

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে আগুন লাগে। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ছিল বিরিয়ানির পরিচিত খাবার দোকান “কাচ্চি ভাই” এর শাখা, পোশাকের ব্র্যান্ড ইলিয়েন, নিচের তলায় স্যামসাং এর শোরুমসহ আরও বেশ কিছু দোকান। স্যামসাংয়ের শোরুমের পাশে রয়েছে একটি কফি শপ। এরকম কফির দোকানসহ ফাস্টফুডের অনেকগুলো দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে ভবনটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিভিয়ে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। এরপরই আসতে থাকে একের পর এক মৃত্যুর খবর।

ভয়াবহ ওই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় সবাইকে। হাসপাতালের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে লাশের সারি আর শোকের আবহে।

ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। এর মধ্যে ৩৫ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

টাইমলাইন: বেইলি রোডে আগুন
০১ মার্চ ২০২৪, ১৫:৫০
ছেলের কাচ্চি খাওয়ার আবদার পূরণ করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন এষা
   

About

Popular Links

x