দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ১৫টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব আসনের মধ্যে রংপুর জেলায় রয়েছে চারটি আসন। এছাড়াও লালমনিরহাটে একটি, গাইবান্ধায় চারটি, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি, কুড়িগ্রামে একটি, নীলফামারীতে দুটি, জয়পুরহাটে একটি এবং দিনাজপুরে একটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রংপুর-১, ২, ৪, ৫
রংপুর-১: গঙ্গাচড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জাপার প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ আগে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তিনি মূলত মসিউর রহমান রাঙ্গার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। রাঙ্গা এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী গঙ্গাছড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু। তিনি জাপার শাহরিয়ারের জন্য চ্যালেঞ্জ।
রংপুর-২: এই আসনটি জাতীয় পার্টির অতীতের শক্ত ঘাঁটি। স্বাধীনতার পরের সময়ে এবং ২০১৪ সাল থেকে এখানে আওয়ামী লীগও শক্তিশালী। নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক এবং লাঙলের প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মণ্ডলের মধ্যে শক্ত লড়াই হবে।
রংপুর-৪: কাউনিয়া-পীরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মন্ত্রী টিপু মুন্সির সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলের। ভোটার উপস্থিতিও বেশি হবে।
রংপুর-৫: এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাশেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আনিসুর রহমানের তীব্র লড়াই হবে। এই আসনে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট-২ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা
লালমনিরহাট-২: আদিতমারী-কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে (আদিতমারী ও কালিগঞ্জ) সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজুল হক। এই আসনে শক্ত লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
গাইবান্ধা-১, ৩, ৪, ও ৫ এই চারটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে
গাইবান্ধা-১: এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী মহাজোটের সমর্থন পাবেন। কিন্তু তার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার। সুন্দরগঞ্জের এই আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মূল ভোটযুদ্ধ হবে।
গাইবান্ধা-৩: আসনে ২০১৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের আধিপত্য। রানিং এমপি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এবারও নৌকার শক্তিশালী কাণ্ডারি। আসনটিতে আওয়ামীপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মো. মফিজুল হক সরকার এবং সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লবও আছেন।
গাইবান্ধা-৪: আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মানোয়ার হোসেন চৌধুরীর।
গাইবান্ধা-৫: আসনটি ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের অধিকারে। এখানে নৌকার মাঝি বর্তমান এমপি মাহমুদ হাসান রিপন। এছাড়াও গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী বুবলীও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকারও দলের পুরনো আসন ফিরে পেতে তৎপর হবেন। ফলে এই আসনে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা আছে।
ঠাকুরগাঁও- ২ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা
ঠাকুরগাঁও- ২: এই আসনে টানা সাতবারের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের সন্তান মাজহারুল ইসলাম সুজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেওয়া এই আওয়ামী প্রার্থীর চাচাতো ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলী আসলাম জুয়েল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল কাদেরও আছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নাহার বেগম এই আসনে লাঙল মার্কার প্রার্থী হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪
কুড়িগ্রাম-৪: আসনটি এক সময় জাতীয় পার্টির দুর্গ হলেও এখন আওয়ামী লীগও শক্তিশালী। আওয়ামী লীগের নেতা মাছুম ইকবাল এবং শহিদুল ইসলাম শালু স্বতন্ত্র প্রার্থী। ফলে নৌকার প্রার্থী বিপ্লব হাসানের ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এতে সুবিধা পাবেন জাতীয় পার্টির একেএম সাইফুর রহমান। এই প্রার্থীদের ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে, জমজমাট ভোট হবে।
নীলফামারী-১ ও ৩
নীলফামারী-১: আসনটি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টির মধ্যে হাতবদল হয়েছে। গত দুইবারের এমপি আফতাব উদ্দিন সরকার এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী। স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ প্রার্থী হয়েছেন ইমরান কবির চৌধুরী জনি। সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট নুর কুতুব আলম চৌধুরী তৃণমূল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। লে: কর্ণেল (অব:) তসলিম জাতীয় পার্টির প্রার্থী। বিএনএম-এর পক্ষ থেকে নির্বাচন করবেন জাফর ইকবাল সিদ্দিকী। বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি আর বিএনএম-এর প্রার্থী শক্তিশালী।
নীলফামারী-৩: আসনটিতে জামায়াতে ইসলামির শক্ত তৎপরতা আছে। এখানে রানিং এমপি জাতীয় পার্টির মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেলকে মহাজোট প্রার্থী করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির কাজী ফারুক কাদেরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মার্জিয়া সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হবেন।
জয়পুরহাট-২
জয়পুরহাট-২: আসনটি অনেকদিন বিএনপির ছিল। ২০১৪ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের। বর্তমান এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এখানে শক্তিশালী প্রার্থী। আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মাহফুজ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এখানে তাই আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
দিনাজপুর-৩
দিনাজপুর-৩: এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবালুর রহিম। তার প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বজিৎ কুমার ঘোষ। ইকবালুর রহিম প্রবল প্রভাবশালী হলেও বিশ্বজিৎ ঘোষ ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বেশি হতে পারে।



