টানা চারবারের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংসদে কখনো বিরোধী দল কখনো মহাজোটসঙ্গী হয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল একসময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা জাতীয় পার্টি। গত দুটি সংসদে বিএনপির অনুপস্থিতিতে সংসদের প্রধান বিরোধী দল ছিল প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দলটি। এবারও বিএনপির বর্জনের মধ্যে সংসদে ২৬টি আসন নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে দেনদরবার করেছিল বর্তমানে জিএম কাদেরের নেতেৃত্বে থাকা জাপা। তবে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র কৌশলে মার খেয়ে দলটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদে জিতেছে ১১টি আসন।
ভোটের দিন রবিবার (৭ জানুয়ারি) দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। তবে ফলাফলে ধরাশায়ী হয়ে এখন তিনি বলছেন, নির্বাচন ভালো হয়নি; এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। তবে দলটি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করবে না বলে জানিয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের পৈত্রিক বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জিএম কাদের বলেন, “আগে থেকেই আমরা যেটা আশঙ্কা করেছিলাম সেটিই হয়েছে। সরকার যেসব আসনে তাদের দলের প্রার্থীদের জয়ী করতে চেয়েছে; হয়েছে। আমার বিশ্বাস দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।”
ভোটকেন্দ্র দখল, জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের পুলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ব্যালটে সিল মেরে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ তোলেন একাদশ সংসদের বিরোধী দলীয় এই উপনেতা।
তিনি বলেন, “ঢাকা-১ আসনে সালমা ইসলামের সব ভোটকেন্দ্র দখল করে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কুমিল্লা-১ আসনে জাপা প্রার্থী আমির হোসেন ভুইয়ার এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে; জামালপুরে সামসুল আলম লিপটনের এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। নরসিংদী-২ আসনে, কক্সবাজার-৪ আসনে, শেরপুর-১ আসনে, লালমনিরহাট-৩ আসনে, সিলেট-২ আসনে, গাইবান্ধা-৩ আসনে, নারায়ণগঞ্জ-১ ও ২ আসনে, চাঁদপুর-৪ আসনে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে, বাগেরহাট-৪ আসনে, জয়পুরহাট-১ আসনে, নীলফামারী-১ আসনে, রংপুর-৪ ও ৬ আসনে অনিয়ম হয়েছে। এসব আসনে আমাদের প্রার্থীরা নিশ্চিতভাবে জয়ী হতো; তাদের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “অনেক আসনে আমাদের প্রার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করাতে বাধ্য করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের ডাইমেনশন দেখা গেল। এ জন্য সরকারকে ভবিষতে মাশুল দিতে হবে।”
আসন সমঝোতার বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল দেখেই প্রমাণিত আওয়ামী লীগ আমাদের আসন ছেড়ে দেয়নি। বরং আমাদের জয় হওয়া আসন কেড়ে নিয়েছে। সরকার ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে আসন ভাগাভাগির কথা প্রচার করে মানুষের মধ্যে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। এটা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। আমরা বিশ্বাস করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে আর কেউ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করবে না।”
মতবিনিময়কালে জাপার কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাপা নেতা এস এম ইয়াসির, আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



